ভালোবাসার গল্প

Bangla Love Story – বিয়ের প্রথম দাওয়াত টা তোমাকেই দিলাম

Bangla Love Story <<<>>>বিয়ের প্রথম দাওয়াত টা তোমাকেই দিলাম <<<

একটি ছেলে একটি মেয়েকে খুব ভালোবাসতো।

একদিন মেয়েটি ছেলেটিকে ছেড়ে চলে যায়।

কিছুদিন পর মেয়েটিকে দেখা যায় অন্য একটি ছেলের সাথে রিক্সায় করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তখন পূর্বে ছেলেটি ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েটির বাসায় যায়।

গিয়ে মেয়েটির গালে সজোরে থাপ্পড় মারে।

আর বলে তুই এত খারাপ এটা আগে জানতাম না।

জানলে তোর মতন নর্তকী সাথে প্রেম করতাম না।

তুই আসলেই একটা নষ্টা মেয়ে। ইত্যাদি বলে মেয়েটিকে গালিগালাজ করে।

কিন্তু মেয়েটি কোন রেসপন্স দেয় না।

অপরাধীর মত সব সহ্য করে। যখন ছেলেটা বাসা থেকে বের হয়ে গেল। 

তখন মেয়েটি বলে উঠলো আবির একটা কথা ছিল? তখন ছেলেটি বলল তুই আর কি বলবি হ্যাঁ।

>>>>>বিয়ের প্রথম দাওয়াত টা তোমাকেই দিলাম – Bangla Love Story<<<<<

তোর আর কি বলার আছে? কিছু না, তবে একটি অনুরোধ ছিল।  

ছেলেটি বলল কি বলবি তাড়াতাড়ি বল।

তখন মেয়েটি বলল তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখী হও।

আর পারলে আমাকে ভুলে যাও। 

ছেলেটি বলল আরে তোর মত বাজারের মেয়েকে তো আমি তখনই ভুলে গেছি।

যখন দেখেছি রিসকায় করে অন্য একটি ছেলের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছিস।

কথাগুলো বলে আবির ওখান থেকে চলে গেল। 

আর, আরোহী বিছানায় শুয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। 

আর বলল হে আল্লাহ তুমি কেন আমায় এত কষ্ট দিচ্ছ। 

আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও।

কিন্তু কিছুদিন পর মেয়েটি ভাবছে, না সবকিছু ঠিকই আছে। 

আমি না হয় একটু কষ্টই পেলাম।

কিন্তু আমার আবির তো সুখী হবে এটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। 

আর কিছুদিন পর, আবির তার বিয়ের কার্ড নিয়ে আরোহীর কাছে আসলো।

আর বলল আরোহী আমি আগামী শুক্রবারে বিয়ে করতেছি? প্রথম দাওয়াতটা তোমাকে দিলাম। 

আসবে তো এসো কিন্তু, বলে ছেলেটি চলে গেল।

>>>>>বিয়ের প্রথম দাওয়াত টা তোমাকেই দিলাম – Bangla Love Story<<<<<

তৎক্ষণাৎ আরোহীর চোখ দিয়ে দুফোঁটা জল গড়িয়ে পরল কাঁধের উপর।

মেয়েটি উপরের দিকে তাকিয়ে বলল হে আল্লাহ আমি আর পারছিনা।

আমি নিজের চোখেই আবিরের বিয়ে দেখতে পারবোনা। 

তুমি একটু সহায় হও। 

একদিন দুইদিন করে শুক্রবার এসে গেল।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের পরে আবির বিয়ে সম্পন্ন হয়।

আবির বারবার বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখছে আরোহী আসে কিনা আসলে আজকে একটু অপমান করা যাবে মনের জ্বালাটা মেটানো যাবে।

কিন্তু না আরোহী আসেনি, এসেছে একটি দুঃসংবাদ।

আরোহী আর নেই, কিছুক্ষণ আগেই সে মারা গেছে।

কথাটা শুনবে সাথে সাথে আবির দৌড়ে চলে গেল।

আরোহীর বাসায় গিয়ে দেখে আরোহী ঘুমিয়ে আছে।

চিরজীবনের মতো ঘুমিয়ে আছে। 

আবির কাঁদতে পারছে না।

শুধু অবাক হয়ে আরোহীর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।

আর স্মৃতিপটে ভেসে আসছে পূর্বের খুনসুটি গুলো।

এমন সময় আবিরের ঘর ভেঙ্গে দিল একটি ছেলে। 

ছেলেটাকে চিনতে একটু ভুল হল না আবিরের। 

এটাই সেই ছেলে যাকে আবির আরোহীর সাথে রিক্সায় ঘুরতে দেখেছিল।

ছেলেটা আবিরের কাঁধে হাত রেখে বলল, ভাইয়া এই চিঠিটা দিতে বলছিল আপনাকে আরোহী আপু, পারলে একটু পরে নিবেন।

তৎক্ষণাৎ চিঠিটা খুলে পরতে শুরু করলো আবির। 

জানি অবাক হবে যে ছেলেটা তোমাকে চিঠি দিল সে আমার ছোট ভাই রফিক। 

ও আমার মামাতো ভাই আমি তো জানতাম না যে আমার জীবনে মরণব্যাধি ক্যান্সার আছে। জানলে কখনো তোমায় ভালবাসতাম না। 

যখন জানলাম আমার ক্যান্সার হয়েছে পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছিল।

তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম তোমার কাছ থেকে দূরে চলে যাবো। 

না হলে তুমি সুখী হতে পারবে না। 

এখন তুমি আমাকে ঘৃণা করো তা আমার খুব ভালো লাগে। 

কিন্তু একটা কষ্ট কি জানো যখন তুমি আমাকে নস্টা নর্তকী বাজারের মেয়ে বলেছিলে সত্যি খুব খারাপ লেগেছিল আমার।

আমি কি আসলেই এমন যাই হোক আজকে আর তোমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইনা। 

তবে একটা অনুরোধ, আমাকে যদি একটুও ভালবেসে থাকো।

তবে সেই ভালবাসার কসম, তুমি বিয়ে করে সুখে সংসার করো।

আমি সব সময় তোমার সুখী দেখতে চাই।  আর এটাই তোমার কাছে আমার শেষ চাওয়া।

চিঠিটা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই পুরোটা পৃষ্ঠা চোখের পানিতে ভিজে গেল।


 

নতুন সব ভালোবাসার গল্প, ভালোবাসার টিপস, ভালোবাসার কষ্টেরগল্প এবং বিভিন্ন প্রকার ভালোবাসার উক্তি পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে সর্বদা চোখ রাখুন।


টিউটোরিয়াল বিষয়ে আর্টিকেল পেতে, আমাদের অন্য সাইটে ভিসিট করতে পারেন।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button