ভালোবাসার গল্প

মিথ্যে ভালোবাসা – কষ্টের ভালোবাসার গল্প

আমি যখন ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি, তখন আমার জীবনের প্রথম প্রেম এলো। 

আমি কলেজে যাওয়ার জন্য রাস্তায় রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম। 

এমন সময় একটা ছেলে এসে আমাকে বলল, তোমার নাম কি? 

আমি বললাম, কেন? 

ছেলেটা আমাকে বলল, তুমি খুব সুন্দর।

আরও সুন্দর তোমার মুখের হাসি।

তুমি হাসলে মনে হয় মুক্ত ঝরে।

তোমার ঐ মায়াবী দুটি চোখ আমাকে আসক্ত করেছে।

তোমার ওই মলিন মুখখানা আমায় পাগল করেছে।

জান, আমি তোমাকে খুব ভালবেসে ফেলেছি।

বলোনা, তোমার নাম কি?

আমি বললাম জানিনা,

এ বলে আমি সেখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে কলেজে গেলাম।

কলেজে ক্লাস শেষ করে বাসায় এলাম। 

ফ্রেশ হয়ে ব্যালকনিতে এসে বসলাম। 

বই পড়বো বলে কিন্তু সেটা আর হলো না। 

আমি বইয়ে মন বসাতে পারতেছিলাম না। 

শুধু ওই ছেলেটির কথাগুলো ভাবতে লাগলাম। 

কি সুন্দর করেই না কবিতার মতো বলতেছিল আমার রূপের বর্ণনা। 

তখন মনটা খুব উত্তেজিত লাগে। 

জানতে ইচ্ছে করছিল কে ওই ছেলেটা কি তার পরিচয়। 

ওর কথা শোনার পর থেকেই কেন জানি মনটা স্থির থাকতে ছিলনা। 

এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেল। 

এরকম করেই এই অস্থির মন টা নিয়ে রাতটা কাটাইলাম। 

পরের দিন সকালে আবার কলেজ যাওয়ার জন্য রাস্তা রিক্সার জন্য একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।

আর মনে মনে ওকে ভাবতে লাগলাম।

ভাবতেছিলাম ওকি আসবে আজকে আমার নাম জানতে। 

কিছুক্ষণ পর দেখি ছেলেটি এসেছে। 

এসেই আমাকে বলল কালকে নামটা না বলেই চলে গেলে যে। 

বলো না সোনা, তোমার নাম কি? 

আমি বললাম আমার নাম সাথী। 

ছেলেটা বলল আহা! কি সুন্দর নাম। 

তুমি আমার জীবন মরনের সাথী। 

আমি বললাম তোমার নাম কি? 

 তোমার বাসা কোথায় আর তুমি কি করো? 

ছেলেটা বলল আমার নাম সাগর। আমার বাসা সুলতানপুর। 

আমি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স করতেছি। 

তখন সাগর আমাকে তার নাম্বারটা দিলো দিয়ে বলল। 

জান, মিস দিও কিন্তু। 

আমি তোমাকে খুব বেশি ভালোবাসি। 

এ বলে আমার হাতটা আলতো করে ছুয়ে দিয়ে চলে গেল। 

ওর স্পর্শ পেয়ে মনটা আনচান আনচান করতে শুরু করলো। 

আর আমিও বেকুল হতে লাগলাম যে কখন কথা বলব সাগরের সাথে।

আমি সাগর কে ফোন দিলাম রাতে। 

সাগর আমাকে বলল, জান, কালকে সকাল দশটার দিকে আমার সাথে রূপসী হোটেলে দেখা করো।

বলে ফোনটা রেখে দিল। 

তার পরের দিনটি ছিল শুক্রবার। 

মার্চ মাসের 11 তারিখ 2018 সাল। 

ঐ দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর স্মরণীয় দিন। 

এদিনটি আমি শত চেষ্টা করেও ভুলতে পারবো না। 

তারপর আমি সকাল দশটার দিকে খুব সুন্দর করে সেজে, গুজে রূপসী হোটেলে গেলাম সাগরের সাথে দেখা করতে। 

হোটেলের কাছাকাছি যখন গেলাম, তখন সাগর আমাকে ফোন দিল বলল। 

জান, গেটে দাঁড়াও। 

আমি ওখানে দাঁড়ালাম। 

তারপর, ওর একটা বান্ধবী এসে আমাকে ভিতরে নিয়ে গেল। 

ভিতরে গিয়ে দেখলাম অসাম সেই সুন্দর করে সাজানো পুরা হোটেলটা। 

সবাইকে দেখতে পেলাম কিন্তু সাগরকে কোথাও দেখতে পেলাম না। 

কিন্তু হঠাৎ করে তার আওয়াজ শুনতে পেলাম। 

পিছনে ফিরে তাকালাম, দেখলাম ও হাঁটু গেড়ে বসে হাতে একটা গোলাপ ফুল নিয়ে আমার সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বলল।

আই লাভ ইউ। আমি গোলাপটা হাতে নিলাম। 

তারপর ও আমাকে বলল দেখি তোমাকে। 

ও আমার সামনে পেছনে ডানে বামে চারদিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো, তারপর আমার চোখে চোখ রাখল। 

এভাবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আমার খুব কাছে আসলো। 

এসে তার দুটি হাত দিয়ে আমার বাহু চেপে ধরল। তখন বলল তোমাকে পরীর মত লাগতেছে। মনে হচ্ছে তোমার মাঝে আমি হারিয়ে যাই। 

তোমার সবটুকু মাধুর্য কেড়ে নেই আমার তৃষ্ণা অধর দিয়ে। 

এ বলে ও আমাকে আরো কাছে এসে আমার ঠোঁটে আলতো করে চুমু দিল। 

তারপর আমাকে তার বুকে জড়িয়ে ধরল। 

আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম। 

ও আমাকে এত সুন্দর করে প্রপোজ করল যেটা ছিল অসাধারণ। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, যে মানুষটা এত বড় সারপ্রাইজ দিল আমি তার ভালোবাসায় কিভাবে সাড়া দিব।

এমন সময় আমার মাথায় দারুণ একটা আইডিয়া এল। 

আমি তাকে আই লাভ ইউ টু বলে গালে একটা চুমু দিয়ে লজ্জা সেখান থেকে দৌড়ে পালালাম। এখান থেকেই শুরু হলো আমাদের প্রেম। আমি সাগরকে খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলাম।আমি নিজের যতটা খেয়াল রাখতাম না, তার থেকেও বেশি ওর খেয়াল রাখতাম। প্রতিদিন ফোনে কথা বলতাম। 

এসএমএস করতাম রাত তিনটা পর্যন্ত।

একদিন না কথা বলে আমি থাকতে পারতাম না। 

ও আমায় জান বলে ডাকত। খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলত। 

একদিন বসন্তের বিকেলে সাগর আমাকে ফোন দিল। 

একে তো বসন্তের বিকেল চারদিকে ফুলের গন্ধে মৌ মৌ সাজ তার ওপর পূর্বা হাওয়া। 

আবার সাগরের ফোন পেয়ে আমার মনটা নেচে উঠল। আমি ফোন রিসিভ করলাম। 

বললাম হ্যালো জান, কেমন আছো। 

আমি বললাম, ভালো। তুমি কেমন আছো। 

ও বলল তোমাকে ছাড়া কিভাবে ভাল থাকব। 

তোমাকে খুব মিস করি জান। আমি বললাম তাই। 

ও বলল হ্যাঁ। 

ও আমাকে বলল তুমি আমায় খুব ভালোবাসো তাই না।

আমি বললাম, হ্যাঁ। 

আমার মা-বাবার পরে আমি তোমাকে খুব বেশি ভালোবাসি।

মা-বাবার পড়ে তোমার স্থান। 

যাকে আমি আমার জীবন সঁপে দিয়েছি।

ও আমায় বলল, তোমাকে একটা কথা বলার ছিল।

আমি বললাম, কি বলো। ও বলল রাখবে তো কথাটা। 

রাখবো বল কি কথা। ও বলল আগে প্রমিস করো কথাটা রাখবে।

আমি বললাম, ওকে প্রমিজ করতেছি এবার বল কি কথা।

ও বলল, তুমি তো আমায় খুব ভালোবাসো তাই না। 

তো আমি তোমার সাথে এক রাত কাটাতে চাই। খুব ভালবাসতে চাই তোমায়। 

আমি বললাম, এ সব কি বলতেছো তুমি। 

বলল, আমি জানি তুমি তোমার প্রমিস রাখতে পারবে না। 

আমি বললাম, তুমি এরকম বলবে আমি ভাবতেও পারিনি। 

তুমি না আমায় ভালোবাসো তাহলে কি সমস্যা। 

তাহলে রাখবে তো তোমার প্রমিস।

আমি বললাম, না সেরকম নয়। 

ও বললো, তাহলে কি রকম। আমি বললাম, আমার ভয় করতেছে। 

কেন কিসের ভয়, আমি বললাম যদি মা-বাবা আর অন্য কেউ জানতে পারে। 

তখন ও বলল, আমি আছি না কোনো ভয় করো না। 

কেউ জানতে পারবে না। 

আজ রাতে তোমার বাড়ির পিছনের দরজাটা খোলা রেখো আমি আসবো। 

আমি বললাম ঠিক আছে। 

এ বলে ফোন রেখে দিল। 

রাত বারোটার দিকে বাসার পিছনের দরজা দিয়ে আমার রুমে এলো। 

তারপর শুরু হল আমাদের সেই বিশেষ মুহূর্ত। 

সারারাত ও আমাকে ওর মত করে ব্যবহার করল। 

এভাবেও আমাকে বেশ কয়েকবার ব্যবহার করেছে।

এরকম করেই ছয় থেকে সাত মাস কেটে গেল। 

একদিন ও আমাকে এসএমএস করে বলল। 

জান, তোমার কি হয়েছে? কাল কেন কথা বলোনি। 

আমি বললাম, আমি একটা বিষয় নিয়ে খুব টেনশনে ছিলাম এজন্য। 

কেন জান কোন সমস্যা? কিসের টেনশন। 

আমি বললাম, আমি প্রেগনেন্ট। 

ও বলল মজা কেন করতেছো। আমি বললাম, আমি সত্যি বলতেছি। 

কাল মাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছিলাম। 

তখন ডাক্তার বলল আমি প্রেগনেন্ট। 

আর মা এই বিষয়টি জেনে গেছে। 

কিন্তু বাবার কানে এখনো দেয়নি। 

ও তখন বলল, এটা কোন ধরনের মজা। 

মজা করার জায়গা পাও না। আমি বললাম, আমি মজা করছি না। 

আমি সত্যি প্রেগনেন্ট। 

ঠিক আছে টেনশন করো না। 

একটা উপায় আছে। আমি বললাম, কি বিয়ে করার কথা বলবে, জানি সমস্যা নেই, আমি বাড়ির সবাই কে মানিয়ে নেব। 

তখন বললো আরে না। 

আমি তখন বললাম, তাহলে কি কোর্ট ম্যারেজ করবা সমস্যা নেই আমি তাতে,ও রাজি তখন ও বলল না এটা না। 

তাহলে কি উপায়। 

তখন বলল, তুমি বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলো। 

আমি বললাম, তুমি না আমায় বিয়ে করবে বলেছিলে। 

তাহলে এখন কেন বাচ্চা নষ্ট করতে বলতেছো। 

তখন বলল, আমি এখন বিয়ে করতে পারব না চাকরি না হওয়া পর্যন্ত। 

তুমি বাচ্চাটা নষ্ট করো। 

আমি বললাম তুমি কি বলছো আমি বাচ্চা নষ্ট করতে পারব না। 

এটা তোমার সন্তান, তুমি হচ্ছে ওর বাবা। 

আর আমি ওর মা। এটা কি? কি ভাবে করতে পারি বলো। ও বললো এটা আমার সন্তান না। কয়জনের সাথে তুমি রাত কাটিয়েছো।

কার সন্তান তুমি পেটে ধারণ করছো। 

তুমি বাচ্চা নষ্ট করলে করো আর না হলে তোমার সন্তান তুমি জানো।

এটা তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। 

আমায় আর বিরক্ত করো না। 

আমি বললাম, স্বার্থপর-বেঈমান তুমি আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে এরকম করলে। 

আমি তোমায় খুব বেশি ভালবেসে ছিলাম। 

বিশ্বাস করেছিলাম তোমায়। 

এর জন্য তুমি যা বলেছ আমি তাই করছি। 

আর এখন আমি তোমায় বিরক্ত করতেছি।

তুমি আমায় এভাবে ঠকাবে আমি কল্পনাও করিনি। 

আজ থেকে আমাকে আর ফোন দিও না। 

তোমার সাথে আমার সম্পর্ক আজ থেকে শেষ।

 

সকল মেয়েদের জন্য বলছি

ভালোবাসার প্রমান দিতে হয় মন দিয়ে আর সেটাও না হয় মনে রেখো, ছেলেটার মুখে নীরবে আবর্জনা ছিটিয়ে চলে আসো নিজের জীবনে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button